Breaking

Wednesday, October 7, 2026

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী PDF | Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography in Bengali

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী PDF DOWNLOAD | Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography in Bengali PDF
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী | Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography in Bengali
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী | Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography in Bengali

Vorosa.in ✏ সুপ্রিয় বন্ধুরা,

আপনারা যারা প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কথা-সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে যারা বিস্তারিত জানতে চাইছেন, তাদের সুবিধার্থেই আমাদের আজকের এই বিশেষ পোস্ট। এখানে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী খুব সুন্দর ও গুছিয়ে তুলে ধরা হয়েছে, যা আপনাদের অনেক কাজে আসবে।

"গৌরীকে দেখাবেন? আমার গৌরী! একটি বার শুধু দেখা করিয়ে দিন!"—ভাবছেন কার কথা বলছি? ইনি হলেন গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও পল্লীজীবনের রূপকার, অসামান্য কথাশিল্পী এবং ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 'পথের পাঁচালী', 'অপরাজিত' ও 'চাঁদের পাহাড়'-এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। 

8888 

নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম ১২ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪
জন্মস্থান মুরাতিপুর গ্রাম, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা, বাংলা প্রদেশ (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ)
মৃত্যু ১লা নভেম্বর, ১৯৫০

ব্যক্তিজীবন

অমর কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপুর-মুরাতিপুর গ্রামে (মামাবাড়িতে) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত, যিনি পাণ্ডিত্য ও কথকতার জন্য 'শাস্ত্রী' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। মাতা মৃণালিনী দেবী। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯১৭ সালে তিনি গৌরী দেবীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং গৌরী দেবীর অকালপ্রয়াণের দীর্ঘকাল পর, ১৯৪০ সালে তিনি রমা দেবীকে বিবাহ করেন। প্রখ্যাত বাঙালি লেখক তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন বিভূতিভূষণের একমাত্র সন্তান।

শিক্ষাজীবন

পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি বনগ্রাম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। ১৯১৪ সালে বনগ্রাম হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯১৬ সালে কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে আই.এ. এবং ১৯১৮ সালে একই কলেজ থেকে ডিস্টিংশন-সহ বি.এ. পাশ করেন। পরবর্তীতে এম.এ. এবং আইন বিষয়ে ভর্তি হলেও আর্থিক অনটন ও পরিবারের চাপে ১৯১৯ সালে তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়।

কর্মজীবন

হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। এরপর তিনি সোনারপুর হরিনাভি স্কুলেও শিক্ষকতা করেন। প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং গোরক্ষিণী সভার প্রচারক হিসেবে বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। ফিরে এসে খেলাৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গৃহশিক্ষক ও প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন এবং পরে খেলাৎচন্দ্রের সুপারিশেই তিনি ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভাগলপুরে অবস্থানকালেই তাঁর অমর সৃষ্টি 'পথের পাঁচালী' রচিত হয়। পরবর্তীতে ধর্মতলার খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর, বনগাঁর নিকটবর্তী গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু সেখানেই শিক্ষকতা করেন।

সাহিত্যচর্চা

১৯২১ সালে 'প্রবাসী' পত্রিকায় 'উপেক্ষিতা' নামক গল্প প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত হয়। ১৯২৫ সালে ভাগলপুরে থাকাকালীন তিনি 'পথের পাঁচালী' রচনা শুরু করেন, যা শেষ হয় ১৯২৮ সালে। ১৯২৮-২৯ সালে সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এটি মাসিক 'বিচিত্রা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করলে তা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এটিই ছিল তাঁর প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি, যা পরবর্তীকালে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে চলচ্চিত্ররূপে বিশ্বদরবারে সমাদৃত হয়। এর ঠিক পরেই তিনি রচনা করেন 'অপরাজিত', যা ছিল 'পথের পাঁচালী'-রই পরবর্তী অংশ। এই দুই উপন্যাসে তাঁর নিজের জীবনেরই ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত তাঁর কিশোর-পাঠ্য রোমাঞ্চকর উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়' আজও তরুণ পাঠকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। ২০১৩ সালে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এটি চলচ্চিত্রে রূপ পায়।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাহিত্যসৃষ্টি হলো:

  • উপন্যাস: পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইছামতী, দৃষ্টিপ্রদীপ, বিপিনের সংসার, দেবযান, অশনি সংকেত, কেদার রাজা প্রভৃতি।
  • গল্প সংকলন: মেঘমল্লার, মৌরীফুল, যাত্রাবদল, জন্ম ও মৃত্যু, নবাগত, তালনবমী, বিধুমাস্টার, উপলখণ্ড, অনুসন্ধান ইত্যাদি।
  • কিশোর সাহিত্য: চাঁদের পাহাড়, হীরা মানিক জ্বলে, মরণের ডঙ্কা বাজে।
  • ভ্রমণকাহিনি ও দিনলিপি: অভিযাত্রিক, স্মৃতির রেখা, তৃণাঙ্কুর, হে অরণ্য কথা কও।

পুরস্কার ও সম্মাননা

'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ সালে তাঁকে মরণোত্তর 'রবীন্দ্র পুরস্কার'-এ ভূষিত করা হয়। এছাড়াও, এই মহান লেখকের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্মভূমি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমায় অবস্থিত পারমাদান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নামকরণ করা হয়েছে 'বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য'। শেষ জীবনের কয়েকটি বছর তিনি তাঁর প্রিয় পিতৃভূমি ব্যারাকপুর এবং বিহারের ঘাটশিলায় তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি 'গৌরীকুঞ্জ'-তে অতিবাহিত করেন। এই সময়েও তাঁর সাহিত্যচর্চা অব্যাহত ছিল। ১৯৫০ সালের ১লা নভেম্বর বিহারের ঘাটশিলায় (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত) মাত্র ৫৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই মহান সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

No comments:

Post a Comment